
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পের পাড় ধসিয়ে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী কুতুব উদ্দিনের পক্ষে তার শ্যালক রবি করিম।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বারইয়ারহাটের একটি রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এফআইকে প্রপার্টিজের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে রবি করিম জানান, সাত মাস আগে বারইয়ারহাট পৌরবাজার এলাকায় আমার ভগ্নিপতি কুতুব উদ্দিনের মালিকানাধীন দেড় একরের মৎস্য প্রকল্পে রেনু ও চারা পোনা মিলিয়ে ৫০ হাজার তেলাপিয়া মাছের চাষ শুরু করি। তখন প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের জায়গায় একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করতে গেলে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক ফখরুল ইসলাম খানের লোকজন নানাভাবে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে আমাদের মৎস্য প্রকল্পের পাড় কেটে ও দেওয়াল ভেঙে রাতের আঁধারে পাশের একটি গভীরভাবে খনন করা পুকুুরে পানি ফেলে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে প্রকল্প এলাকায় গেলে ফখরুল ইসলাম খানের পক্ষে মুজিব ও দ্বীন মোহাম্মদ নামে এফআইকে প্রোপার্টিদের কর্মকর্তারা সমঝোতার কথা বলেন। তখন আমরা আমাদের চাষকৃত মাছের বাজার মূল্য দাবি করলে ফখরুল ইসলাম খানের প্রতিনিধি মুজিব ও দ্বীন মোহাম্মদ কয়েক দফা ফোনে মালিকের সাথে কথা বলেও কোন সমাধান দেননি।
তিনি আরো জানান, এতে আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মূলত মৎস্য প্রকল্প এলাকার জায়গাটি ফখরুল ইসলাম খান আমাদের কাছ থেকে কিনতে চেয়েছিল। দামে বনিবনা না হওয়ায় জায়গা কিনতে না পেরে তারা এখন মৎস্য প্রকল্পে লুটপাট করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের পানি চলে যাওয়ায় অসংখ্য মাছ মরে ভেসে উঠেছে। কিছু মাছ প্রকল্পের পূর্ব পাশের পাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় সৃষ্ট গর্ত দিয়ে পাশের পুকুরে চলে গেছে। স্থানীয়রা মাছ ধরতে পাড়ে-পাশে অবস্থান করছে।
এবিষয়ে এফআইকে প্রপার্টিজের তত্বাবধায়ক দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির মালিকানাধীন একটি পুকুর খনন করতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি মাছের খামারের পাদদেশে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। কিন্তু তারা ক্ষতিপূরণের অন্যায্য দাবী করায় বিষয়টি এখনও সুরাহা হয়নি।’




