
রাজশাহীর পবায় আতাবুর রহমান (৩৭) নামে বিএনপির এক কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় চাঁদা দাবির অভিযোগ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেছেন হাসানুজ্জামান বিপ্লব (৪৫) ও আজাদ আলী (৪৯) নামের দুই ঠিকাদার। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আতাবুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারী) সকালে পবার নওহাটা পৌরসভার একটি রাস্তার কাজের সাইটে গিয়ে চাঁদা দাবি করে বিএনপির কর্মী আতাবুর রহমান। এ নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন আতাবুরকে মারধর করে। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনাকে পূর্বশত্রুতার জেরে ছেলেকে মারধর এবং ২ লাখ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে দাবি করে পবা থানায় মামলা করেন আতাবুরের বাবা মতিউর রহমান।
ঠিকাদার আজাদ আলী বলেন, মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে তিনি এবং বিপ্লব রাস্তার মাটি কাটার কাজটি নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভেকু নিয়ে কাজ শুরু করেন। তখন আতাবুর গিয়ে বলেন, কাজ করলে তাকে টাকা দিতে হবে। তা না হলে ভেকু ভেঙে দেবেন। এসময় তিনি আতাবুরকে বলেন, ‘আমিও বিএনপি, তুইও বিএনপি। কিসের টাকা?’ তখন আতাবুর চাঁদা চাইতে এসেছেন দেখে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে মেরেছেন। তিনি আতাবুরকে মারেননি বলেও দাবি করেন।
তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার বিপ্লব পবা থানায় অভিযোগ করতে যান। তাদের দেখে আতাবুর তার লোকজন নিয়ে থানার সামনেই তাদের মারপিট করেন। পরে রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, বিপ্লব ও আজাদকে থানার সামনে বিক্ষুব্ধ লোকজন গণপিটুনি দিয়েছিল। আমরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আতাবুরকে মারধরের অভিযোগে মামলা হয়। তাই তাদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজাদ ও বিপ্লবকেও মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা না নেওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ওরা তো থানায় আসামি হিসেবে ছিল। তাই তাদের মামলা নেওয়া হয়নি। তাদেরও মারধর করা হয়েছে, এটা সত্য। চাঁদা দাবি কিংবা মারধরের অভিযোগে তারাও জামিনে আসার পরে মামলা করতে পারে।।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আতাবুর রহমানের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।




