সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ১৬৭ প্রার্থী ঋণগ্রহীতা: সুজন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট দুই হাজার ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৩১৯ জন প্রার্থীর আয়কর প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি যেসব প্রার্থী শুধু প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন কিন্তু আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি, তাদের মনোনয়নকে অসম্পূর্ণ বলে দাবি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সংস্থাটি বলছে, এক হাজার ৩১৯ জন প্রার্থীর আয়কর দিলেও এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ বিএনপির ১৬৭ প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা মোট ঋণগ্রহীতার ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি।

সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার তথ্য উপস্থাপন করেন।

উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ প্রমুখ।

সুজন জানায়, মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জন ঋণগ্রহীতা, যা শতকরা হিসাবে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। দলটির ১৬৭ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা মোট ঋণগ্রহীতার ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

সুজন জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তৃতীয় অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এছাড়া ১৩২ জন প্রার্থী কেবল টিআইএন সনদ জমা দিয়েছেন, আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি।

সুজনের বিশ্লেষণে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর হার বেড়েছে। আগের নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা এবারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ১০ শতাংশে। ৭৪১ জন প্রার্থীর আয় ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে। ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন এবং ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার মধ্যে আয় করেন ৭১ জন প্রার্থী। এছাড়া ১৫৫ জন প্রার্থী হলফনামায় আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি। কোটি টাকার বেশি আয় করা প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৫১ জন। এরপর ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন।

0Shares