
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবাধে ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার কথা কয়লা। কিন্তু লোক দেখানো কিছু কয়লা ভাটার পাশে রেখে গোপনে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। অনেকে আবার খোলামেলাভাবেই তাদের ভাটায় ইট পোড়াতে কাঠ ব্যবহার করছেন। রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকায় রয়েছে বনবিভাগ ও প্রশাসন।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে উঠা বেশির ভাগ ইট ভাটায় জ্বালানি হিসাবে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ভাটার আশপাশের কাঠের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এসব কাঠ পোড়ানোর বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযান দেখা যায়নি।
লোহাগাড়া উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবদুল কাইয়ুম জানান, বিভিন্ন ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এতে শিশু ও বয়স্করা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। একদিকে যেমন শ্বাসকষ্ট, অন্যদিকে ফুসফুসেরও সমস্যা হয়। হাঁপানী, চোখ দিয়ে পানি জড়াসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা দেখা দেয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা স্থাপিত হলে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকি থাকে।
সচেতন মহল জানান, ইট ভাটার কারণে ফসলি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো অবস্থায় ভাটায় কাঠ পোড়ানো যাবে না। আমাদের দেশে বছরের অর্ধেক সময় ঝড়-বন্যা হয়ে থাকেণ্প্রোকৃতিক দুর্যোগ থেকে বনাঞ্চল আমাদের রক্ষা করে থাকে। এভাবে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
ইটভাটার শ্রমিকরা জানান, কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও কাঠ দিয়েই ইট পোড়ানোর প্রস্তুত চলছে। প্রতিটি ভাটায় দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ মণ জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়।
ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত আইন ২০১৩ ধারা ৬-এ বলা হয়েছে ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসাবে কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি কেউ ধারা ৬ লঙ্ঘন কর ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করেন, তাহলে ওই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বারবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।




