
ভোলার তজুমদ্দিনে এক প্রতিবন্ধী নারীকে (২৬) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শশীগঞ্জ এলাকার দাসপাড়া নেপাল কবিরাজের বাড়ির সামনে থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এক সন্তানের মা ভুক্তভোগী ওই নারী উপজেলার চাঁদপুরইউনিয়নের দড়িচাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক মাস আগে স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কচ্ছেদ হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী রবিবার বিকেলে স্থানীয় আড়ালিয়া গ্রামে অনীল বাবাজীর তিরোধান উৎসবে (কীর্তন) যায়। রাত ৯টার দিকে পূর্ব পরিচিত অটোচালক রাকিব, শাকিল ও রাসেল তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর তারা শশীগঞ্জ গ্রামের দাসপাড়া ধোপাবাড়ির মোড় এলাকায় নিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরে পাশের একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক রাতভর পালাক্রমে নির্যাতন চালায়। ভোর রাতে শশীগঞ্জ দাসপাড়া গ্রামে সাহরির পর মুসল্লিরা মসজিদে যাওয়ার সময় স্থানীয় ফারুক নামের এক ব্যক্তি ওই নারীকে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী স্বপন দাসের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী কথা বলার সময় কথা জড়িয়ে গেলেও জানান যে রাকিব, শাকিল ও রাসেল নামের তিন যুবক তাকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওই অভিযুক্তদের বিস্তারিত পরিচয় ও ঠিকানা জানাতে পারেনি।
তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সামছুল আলম সোহেল জানান, সকালের দিকে এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই নারীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




