
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক বিএনপি কর্মীর বালুঘাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার (০৪ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের শিলাইদহ বালুঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বিএনপি কর্মী ওসমান কাজী শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের জাবেদ কাজীর ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ প্রামাণিক (৪৫) একই এলাকার আফাজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
এলাকাবাসী জানায়, আশরাফ প্রামাণিকের জমিজমা, আধিপত্য বিস্তার ও গেল সংসদ নির্বাচন নিয়ে ওসমান কাজীর বিরোধ চলে আসছিল। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কয়েকদফা সংঘর্ষ-সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এ সব ঘটনায় অন্তত ৫টি মামলা করা হয়েছে। মামলা ও শত্রুতা মিটমাটের জন্য বুধবার সকালে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আশরাফ প্রামাণিক তাঁর লোকজন নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এছাড়াও উসমান কাজীর ভাড়াটিয়া বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরকারের বালু সরবরাহের ৬৫টি পাইপ ভেঙে ফেলা হয়।
বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরদার বলেন, তিনি ওসমান কাজীর বাড়িতে ভাড়া থেকে প্রায় ৭ বছর ধরে বালু আনলোডের ব্যবসা করছেন। কিন্তু ওসমান কাজীর সঙ্গে আশরাফ প্রামাণিকের শত্রুতা রয়েছে। এর জেরে আশরাফ তার লোকজন নিয়ে সকালে প্রথমে ওসমান কাজীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পরে তাঁর ৬৫টি পাইপ ভাঙচুর করেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ওসমান কাজী অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ প্রামাণিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও নদীতে নৌকা ছিদ্র করা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। গত নির্বাচনের পর তাঁর প্রতিষ্ঠানে কয়েক দফা হামলা ও লুটপাট করেছে তারা। এ সব ঝামেলা মিটাতে আজ সকালে উভয়পক্ষের বৈঠক ছিল। কিন্তু তাঁর আগেই প্রতিপক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
প্রতিপক্ষের বালুঘাটে হামলা করার কথা স্বীকার করে আশরাফ প্রামাণিক বলেন, ওসমান কাজী আমার জমি দখল করে বালুর ব্যবসা করছে। সালিস বৈঠকেও কাজ হয়না। তাই সকালে তাঁর জমিতে থাকা ঘর ও বালু পরিবহনে ব্যবহৃত পাইপগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে।




