
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ‘পলাতক’ আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ একে একরামুজ্জামান সুখনের নামে দাখিল করা মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং হত্যা মামলা রয়েছে।
শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় একরামুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন না।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এর আগে একরামুজ্জামান বিএনপির রাজনীতি করেছেন। তবে দলের নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
ভোটে জেতার পর ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বোট ক্লাবে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সঙ্গে নাসিরনগর উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন একরামুজ্জামান।
২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একরামুরজ্জামানের বিরুদ্ধে নাসিরনগর ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামায় একরামুজ্জামান তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা, নাসিরনগর, যাত্রাবাড়ী এবং উত্তরা-পূর্ব ও পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া ৭টি মামলা তদন্তাধীন বলে জানান।
‘পলাতক’ একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছিলেন এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান।
আব্দুল হান্নান বলেন, পলাতক আসামি একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা চলমান রয়েছে। তাছাড়া তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। তিনি কিভাবে নির্বাচন করেন? তাই আমরা এটি বাতিলের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
নাসিরনগর থানার ওসি মো. শাহীনূর ইসলাম জানান, নাসিরনগর থানার মামালাটিতে একরামুজ্জামান জামিন নেননি। তিনি কাগজে-কলমে পলাতক আছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান বলেন, কাগজপত্র সঠিক থাকায় একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে আপত্তি থাকলে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।




