আগের পোশাকে ফিরতে চায় ৯৬.৫৭ শতাংশ পুলিশ সদস্য

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশের জন্য যে পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি পরতে আগ্রহী মাত্র ০.৮৪ শতাংশ সদস্য। আগের পোশাকে ফিরতে চায় ৯৬.৫৭ শতাংশ পুলিশ সদস্য। আর নতুন পোশাক চায় ২.৫৯ শতাংশ পুলিশ।

পোশাক নিয়ে পুলিশের জরিপে বাহিনীর সদস্যদের এমন মতামত উঠে আসে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পুলিশের পোশাক পরির্তনের দাবি জোরালো হয়। এই প্রেক্ষাপটে সারাদেশে পুলিশের পোশাক নিয়ে জরিপ শুরু হয়।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে তিনটি বিষয় জানতে চেয়ে ৬৪ জেলার এসপি ও সব ইউনিট প্রধানের কাছে একটি চিঠি গেছে। তা হলো- আগের পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ পুলিশ সদস্য, কত শতাংশ বর্তমান পোশাকে খুশি, আর কত শতাংশ একেবারে নতুন পোশাক চান। সোমবারের মধ্যে নিজ নিজ ইউনিটের পুলিশ সদস্যদের মতামত নিয়ে তা পুলিশ সদর দপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পোশাক পরিবর্তনে পুলিশ কর্মকর্তারা যে মতামত দেন তা উপেক্ষিত ছিল। তাদের অভিযোগ, লৌহ (আয়রন) রঙের নতুন ইউনিফর্ম অন্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রাতে দায়িত্ব পালনের সময় এটি দৃশ্যমান হয় না। নিরাপত্তাকর্মীদের পোশাকের সঙ্গে পুলিশের এই পোশাক অনেক ক্ষেত্রে মিলে গেছে। দেশের আবহাওয়ার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়।

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেকটা তড়িঘড়ি করে পুলিশের পোশাক বদল করা হয়। এতে একজন উপদেষ্টা ও পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের ৩ জন মুখ্য ভূমিকা রাখেন। দরপত্র আহ্বান করার পর ১৪১ কোটি টাকার কাপড় কেনার কাজটি পায় নোমান গ্রুপ। ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়শেন বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ পুলিশের জন্য যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।

গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে জানানো হয়, বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যই তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। বরং তারা আগের পরিহিত পোশাকটিকে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের প্রতীক হিসেবে মনে করেন।

0Shares