
জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ নিয়োগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি ঢাকা মহানগর মূখ্য হাকিম আদালতে দায়ের হওয়া মামলার ৮ নম্বর আসামি। মামলাটির প্রধান আসামি পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পুলিশের সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও রয়েছে।
অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে ২০২২ সালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা ছাত্রদলের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতেও তিনি অভিযুক্ত।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও একাডেমিক বয়কট শুরু করলে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিভাগে উপস্থিত হন। তবে এরপরও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখার এক নেতাকে গোপনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত শিক্ষক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী জানান, নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সবকিছু হয়েছে। আমরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্র। আমরা অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বিশ্বাস স্যারকে হারিয়েছি। আমি আশা করি আমার শিক্ষার্থীরা এ বিষয়টিকে বিবেচনায় রাখবে।




