রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় দলীয় কর্মীদের হাতে বিএনপি নেতা এরশাদ আলীর (৬৫) খুনের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে নিহত এরশাদ আলীর ছেলে রিমন আলী (২২) বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় মামলাটি করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, চারঘাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জীবন, ইউসুফপুর নিখাইপাড়া গ্রামের মো. আমরাউল, মো. জোয়াভ, আতিকুল ইসলাম ওরফে সাইমুল, মো. আসাদুল, মো. সুমন, মো. দাব্বির এবং মো. হালিম। আতিকুল ইসলাম সাইদুল প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের সমর্থক এবং এলাকার সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। বাদীর বাবা এরশাদ আলী সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের একজন সমর্থক। আগামী ৯ এপ্রিল ইউসুফপুরে জলসার প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয় নিয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া জামে মসজিদে স্থানীয় লোকজনের মতবিনিময় হয়। সেখানে বাদী ও তাঁর বাবাও উপস্থিত ছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, জলসার প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকদের সঙ্গে আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। তখন উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকেরা প্রকাশ্যে হুমকি দেন, চাঁদকে সমর্থন করলে খুন-জখম করে ফেলবেন। এরশাদ আলী এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তিনি মসজিদ থেকে চলে আসেন।
রাতে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ পড়ার জন্য ইউসুফপুর সিপাইপাড়া মসজিদে যান। নামাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া গ্রামে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, আমের ডাল ও পেয়ারাগাছের ডাল নিয়ে এরশাদ আলীর পথরোধ করেন। এরপর তাঁকে সেখানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এব্যাপারে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, মসজিদের কমিটি নিয়ে সমস্যায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। এখন আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আবু সাঈদ চাঁদ আমাকে জড়িয়ে মামলা করিয়েছেন।’
চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলা রেকর্ড হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে চেষ্টা করছে পুলিশ।