বান্দরবানের আলিকদমে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চলছে তিনটি ইটভাটা। উপজেলার আমতলী, পালং পাড়া ও তারাবটতলি এলাকায় অবস্থিত অবৈধ এই ইটভাটাগুলোর কারণে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা। বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও।
স্থানীয়রা বলছেন, ইটভাটাগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও লোকালয়ের তিন চারশগজের মধ্যেই অবস্থিত। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বনের কাঠ পুড়িয়ে ও পাহাড় কেটে এসব ভাটায় ইট তৈরির কাজ করা হচ্ছে। ভাটার জন্য বেশিরভাগ লাকড়ি সংগ্রহ করা হয় আলীকদম-থানচি সড়কের আশেপাশের বনাঞ্চল থেকে। এ ছাড়া ইটভাটার জন্য পাহাড় কেটে লাকড়ি পরিবহনের রাস্তা তৈরি করা হয়। এভাবে গাছ ও পাহাড় কাটা চলতে থাকলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনিবার্য।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, ইটভাটাগুলো স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর পাহাড় কেটে, কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করছে। ইট ভাটায় জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বনজ-ফলদ বাগানের গাছ কাটা হচ্ছে নির্বিচারে। অবাধে পাহাড় ও গাছ কাটার কারণে পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটছে। ইটভাটার ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আশপাশের বাতাস দূষিত হওয়ায় স্থানীয়ারা চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এদিকে, ব্রিকফিল্ড এলাকায় ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের।
আলিকদম সদরের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এইসব ইটভাটার পাশ দিয়ে চলতে গেলে নাকমুখ ঢাইকা চলতে হয়। শ্বাসকষ্ট আর চর্মরোগের মত সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। ছোট বাচ্চা আর বয়স্করা প্রায়ই অসুস্থ হয়।’
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইটভাটার ভারী ট্রাক চলার ফলে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়, বর্ষার দিনে এই রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। প্রতিদিনের চলাচলে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আলিকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আলিকদম উপজেলায় নতুন ইটভাটা স্থাপন বা পুরাতন ইটভাটা পরিচালনার কোনো অনুমতি নেই। যারা আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও জরিমানা করা হবে।
বান্দরবান জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, পাহাড়ি এলাকা ও জনবসতি এলাকায় ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি না মেনেই এই ইট ভাটাগুলো চলছে। পর্যায়ক্রমে এই ইট ভাটাগুলোতে অভিযান চালানো হবে।