বরিশালে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অধীনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা ১২ নেতাকে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি।
সে ১২ নেতা হলেন- বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে ও ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু, ৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা বেগম, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী সেলিনা বেগম, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা পারভীন, মহানগর মহিলা দলের সাবেক সহ-সভাপতি জেসমিন সামাদ শিল্পী, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সিদ্দিকুর রহমান ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য জাবের আব্দুল্লাহ সাদী।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। এ নিয়ে সিটি নির্বাচনের সময় বহিষ্কার ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ‘বেইমান’ এবং ‘মীর জাফর’ আখ্যা দিয়ে এ ১২ জনসহ ১৯ নেতাকে ওই বছরের ৪ জুন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছিল, আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা খুন-গুমের শিকার পরিবারসহ গণতন্ত্রকামী জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। গণতন্ত্র উদ্ধারের ইতিহাসে তাদের নাম ‘বেইমান, বিশ্বাসঘাতক ও মীর জাফর’ হিসেবে উচ্চারিত হবে।
এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি মহানগর বিএনপির সাবেক তিন যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ্ আমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের বৈধতা দেন তারা।